যতই দিন যাচ্ছে শাশ্বত দ্বীন ইসলাম নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী এবং শরীয়তের বিধি-বিধান নিয়ে কটাক্ষকারী লোকদের স্পর্ধা বেড়েই চলেছে। যে যেভাবে পারছে ফ্রি স্টাইলে দ্বীন-ধর্ম নিয়ে তামাশা করছে। কেউ নাস্তিক পরিচয়ে করছে। কেউ লিবারেল পরিচয়ে করছে। কারও কাছে ইসলামের কোনো একটা বিধান পছন্দ হচ্ছে না আর অমনি সে সমালোচনা করে বসছে। কেউ আবার ইসলামের কোনো বিধানের মনগড়া ব্যাখ্যা দিচ্ছে। এসব যেন আর থামছেই না। অথচ ৯০% মুসলমানের দেশে এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।
মুসলমানের দেশে ইসলাম নিয়ে কেউ কটূক্তি করবে, শরীয়তের বিধানকে তামাশার বিষয় বানাবে, খাঁটি ইসলামী বিষয়ের মনগড়া ব্যাখ্যা প্রদান করবে– এমনটি কী করে সম্ভব? কিন্তু সঠিক নিয়ম-নীতি না থাকা, বিধি-বিধানের বিষয়ে মুসলমানদের গাফেল থাকা, সঠিক জ্ঞান অর্জন না করা এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকার কারণে দুষ্কৃতিকারীরা তাদের কাজগুলো অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে।
এমন নয় যে, শুধু ইসলাম বিরোধিতার নামে ইসলামকে নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে; বরং এমন অনেক দুষ্ট লোকও রয়েছে, যারা ঘরের শত্রু, যারা ইসলামী লেবাসধারী, যারা নিজেদেরকে মুসলিম বা ধার্মিক বলে পরিচয় দেয়, তারাও মনগড়া বিষয়কে ইসলামে দাখিল করা, ইসলামের নামে চালিয়ে যাওয়া, ইসলামের বিষয়গুলোকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা, ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার বেলায় পিছিয়ে নেই। এই ধরনেরই একটি বিষয় সম্প্রতি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তা হচ্ছে, কথিত ‘হালালা সেন্টার’।
হালালা সেন্টার, অতঃপর…
১২ জুন ২০২৬ দৈনিক সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী– “ফেসবুকে ‘হালালা সেন্টার’ নামে একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের হিল্লা বিয়ের বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে শত শত মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য পাঠিয়েছিলেন। তবে বিয়ের প্রক্রিয়ার বদলে কয়েকদিন পর সামাজিক মাধ্যমে তাদের জীবনবৃত্তান্ত, ছবি, ই-মেইল ও ফোন নম্বরসহ সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে তারা সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে হালালা সেন্টারের প্রচারণা চালানো সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে কেউ কেউ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আবার কেউ ফেসবুকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, কীভাবে বারবার নাম বদল করা হয়েছে ওই আইডির।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘সানজিদা আক্তার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে। কয়েক দিন আগে ওই আইডি থেকে হিল্লা বিয়ের (মুহাল্লিল-সংক্রান্ত) জন্য আগ্রহী পুরুষদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। পোস্টে হাফেয, আলেম, শিক্ষক, ইমাম, ব্যবসায়ী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আগ্রহী হওয়ার দাবি করা হয় এবং ইমেইলে আবেদন পাঠাতে বলা হয়। পরে একই আইডি থেকে একটি পোস্টে অন্তত ৮০ জন আবেদনকারীর ই-মেইল ও সিভির স্ক্রিনশট প্রকাশ করা হয়। সেখানে অনেকের নাম, ফোন নম্বর, পেশা ও ব্যক্তিগত পরিচয় দৃশ্যমান ছিল। পোস্টে দাবি করা হয়, ‘হাজার হাজার’ আবেদন এসেছে এবং সেগুলোর একটি অংশ ‘স্মারক হিসেবে’ প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য প্রকাশের পর থেকেই সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী বিষয়টি ব্যঙ্গাত্মকভাবে দেখলেও, ভুক্তভোগীদের জন্য এটি গুরুতর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার সংকট তৈরি করে।”
উক্ত ঘটনা রাষ্ট্রের সকল শ্রেণির লোকের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে– এখানে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ কতটা দুর্বল! না হয় একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্র, যেখানে সাধারণ আইন-কানূন রয়েছে, যেখানে বহু লোক ধার্মিক, অসংখ্য মসজিদ-মাদরাসা রয়েছে, লক্ষ আলেম-উলামা রয়েছেন, সেখানে একটি বিষয়কে ধর্মীয় লেবাস পরিয়ে, মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে উপস্থাপন করা যেতে পারে– চিন্তা করা যায়!
হালালা সেন্টার নিয়ে কথা বলার আগে প্রথমেই বলে নেওয়া উচিত, ইসলামী শরীয়তে এই ধরনের হালালা বা হালালা সেন্টারের কোনো স্থান নেই। কুরআন-সুন্নাহ্র কোথাও এ ধরনের হালালার কথা বলা হয়নি, হালালা সেন্টার তো দূরের কথা। পুরো বিষয়টাই কল্পিত, মনগড়া ও বানানো। এটি যারাই করেছে, তারা ইসলাম ও উলামায়ে কেরামকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই করেছে। ইসলামকে বদনাম করার জন্যই করেছে।