গত মে মাসের ০৯ তারিখে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন রমনা’য় ‘রোযা ও ঈদ বিশ্বব্যাপী একই দিনে পালনের দাবির ভ্রান্তি নিরসন ও শরয়ী বিশ্লেষণ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সেমিনারে দেশের দ্বীনী বিভিন্ন ঘরানার প্রতিনিধি আলেমগণ অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন মাসিক আলকাউসারের গত সংখ্যায় (যিলহজ্ব১৪৪৭ হি.) প্রকাশিত হয়েছে।
বায়তুল মোকাররমের সম্মানিত খতীব হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক দামাত বারাকাতুহুম উক্ত সেমিনারে যে সারগর্ভ আলোচনা পেশ করেছেন তার একাংশ গত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। তাতে তিনি বলেছেন, ‘নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে নিজ এলাকার হেলাল দেখে চান্দ্রমাস শুরু হত। হেলাল দেখা না গেলে মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করে পরবর্তী মাস শুরু করা হত। কোনো সাক্ষী এসে যদি বলত, আমরা হেলাল দেখেছি, সেই সাক্ষ্য অনুযায়ী নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমল করেছেন এবং আমল করতে বলেছেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকটবর্তী এলাকার সাক্ষ্য দেরিতে এলেও তা গ্রহণ করেছেন। অনেক দূরবর্তী এলাকা থেকে নবীজীর কাছে হেলালের সাক্ষ্য আসার কোনো ঘটনা আমাদের জানামতে ঘটেনি। কিন্তু সাহাবা যুগে এমন ঘটনা ঘটেছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. মদীনায় ছিলেন। তাঁর কাছে শামে হেলাল দেখা যাওয়ার খবর এসেছে। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি এবং বলেছেন নবীজীর নির্দেশ আমাদের প্রতি এমনই।
পাহাড় ঘেরা এক এলাকার কিছু লোক আমীরুল মুমিনীন উমর রা.-এর কাছে এসে বলল, আমরা পাহাড় ঘেরা এলাকায় বাস করি। তাই অন্যরা যখন হেলাল দেখে, তখন আমরা হেলাল দেখি না। উমর রা. তাদেরকে অন্য এলাকার হেলালের খোঁজ রাখতে বলেননি। সতর্কতার কথা বলে এক দিন আগে রোযা রাখার কথাও বলেননি; বরং বলেছেন, তোমরা হেলাল দেখা অনুযায়ী আমল কর; হেলাল দেখা না গেলে ত্রিশ দিন পূর্ণ করে পরের মাস শুরু কর।
খতীব ছাহেব আরও বলেন, উমর রা. ও ইবনে আব্বাস রা. যে মত গ্রহণ করেছেন, এটি শুধু তাদের দুইজনের মত নয়; বরং এটি সকল সাহাবায়ে কেরামের মত। সাহাবায়ে কেরামের যুগে এর বিপরীতে কোনো একটা উদ্ধৃতি ওই ভাইদের কাছে নেই, যারা আজ এক দেখার মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে ঈদ করাতে চাচ্ছেন! সর্বপ্রথম হেলাল দেখা অনুযায়ী ঈদ করা ফরয দাবি করছেন!’
হযরতের গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের যতটুকু অংশ গত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে, তাতে এ বিষয়গুলোর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। অবশিষ্ট আলোচনার কিছু অংশ হযরতের সংযোজন ও পরিমার্জনসহ এ সংখ্যায় পেশ করা হচ্ছে।
আমাদের দেশে যারা পুরো বিশ্বে একই দিনে রোযা-ঈদ করার নবসৃষ্ট মতের প্রবক্তা, তারা–
يَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْاَهِلَّةِ
–আয়াতটি তাদের মতের পক্ষে পেশ করে থাকেন। অথচ আয়াতে হেলালের কথা বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে এই ভাইয়েরা মাস শুরু করতে চায় কনজাঙ্কশন থেকে। এ প্রসঙ্গে তারা “রোজা, ঈদ, কুরবানীসহ চাঁদের তারিখ নির্ভর সকল ইবাদাত বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের একই চান্দ্রতারিখ ও একই দিনে পালন সম্পর্কিত তাফসীর, হাদীস ও ফিকহের ১৩৬ খানা গ্রন্থের শার‘ঈ ফাত্ওয়া”তে বিভিন্ন তাফসীরের কিতাব থেকে বিভিন্ন ইবারত উদ্ধৃত করেছেন। কিন্তু তাতে তাদের নতুন নতুন দাবিগুলোর কোনো কিছুই নেই। প্রশ্ন হল, আপনারা এইসব ইবারত কেন পেশ করছেন! আপনারা এই আয়াতের ওপর যেসব অদ্ভুত কথা (বরং বলতে হয় উদ্ভট কথা) চাপিয়ে দিচ্ছেন, পারলে সেগুলোর উদ্ধৃতি দেখান। কোন্ মুফাসসির বলেছেন– এই আয়াতের মধ্যে আল্লাহ তাআলা লুনার ক্যালেন্ডার দেখে রোযা-ঈদ করার কথা বলেছেন– সেটা দেখান! নিউ মুন (কনজাঙ্কশন) থেকে মাস শুরু করতে হবে অথবা ‘সর্বপ্রথম দেখা অনুযায়ী রোযা-ঈদ করা সবার ওপরে ফরয’– এমন কথা কোন্ মুফাসসির বলেছেন– তা দেখান! আপনার যা দাবি, তাফসীরের কিতাব থেকে তা বের করুন। সেটা তো এই কিতাবগুলোতে নেই; বরং তার বিপরীতে রয়েছে অনেক অনেক উদ্ধৃতি। তাদের কিতাবে তারা এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সর্বপ্রথম উদ্ধৃতি এনেছেন রূহুল মাআনী থেকে। অথচ সেই কিতাবে এই আয়াতের অধীনেই লেখক আলূসী রাহ. বলেছেন–